· Civil

প্রিয়েমশন মামলাঃ কখন হবে- কখন হবে না?

প্রিয়েমশন (Pre-emption) হলো আইন দ্বারা প্রদত্ত এমন একটি অধিকার, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন যোগ্য ব্যক্তি অন্যের নিকট বিক্রিত জমি একই মূল্য ও শর্তে নিজের নামে নেওয়ার দাবি করতে পারেন। বাংলাদেশে এটি প্রধানত রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (State Acquisition and Tenancy Act) এবং মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে স্বীকৃত।

প্রিয়েমশন মামলাঃ কখন হবে- কখন হবে না?
কখন প্রিয়েমশন হবে? রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬ ধারায় প্রিয়েমশন সাধারণত হবে যদি— জমি একজন সহ-শরিকের কাছে নয়, বহিরাগত (stranger) ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। আবেদনকারী আইনে নির্ধারিত যোগ্য ব্যক্তি হন (যেমন, সহ-শরিক বা আইনে স্বীকৃত অন্য যোগ্য ব্যক্তি)। আইন নির্ধারিত তামাদি সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করা হয়। নির্ধারিত ক্রয়মূল্য, ক্ষতিপূরণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ আদালতে জমা দেওয়া হয়। বিক্রয়টি প্রকৃত ও বৈধ বিক্রয় (sale) হয়। মুসলিম আইনে প্রিয়েমশন হবে যদি— বৈধ বিক্রয় সংঘটিত হয়। আবেদনকারী শফার অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি হন। বিক্রয়ের সংবাদ পাওয়ার পর মুসলিম আইনে নির্ধারিত দুই ধাপের দাবি (তলব) যথাযথভাবে করা হয়। অযৌক্তিক বিলম্ব না করা হয়। কখন প্রিয়েমশন হবে না? নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে সাধারণত প্রিয়েমশন গ্রহণযোগ্য হয় না— বিক্রয় যদি সহ-শরিকের কাছেই হয় (৯৬ ধারার প্রেক্ষাপটে)। বিক্রয় নয়, বরং দান (Gift), উইল, বিনিময় (Exchange) বা অন্য ধরনের হস্তান্তর হয়। আবেদনকারী যোগ্য ব্যক্তি না হন। মামলা তামাদি হয়ে যায়। আদালতে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা না দেওয়া হয়। বিক্রয় যদি ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হয়; সে ক্ষেত্রে প্রতিকার হবে দলিল বাতিলের মামলা, প্রিয়েমশন নয়। আবেদনকারী নিজেই বিক্রয়ে সম্মতি দিয়ে পরে প্রিয়েমশন দাবি করেন (Waiver বা Estoppel-এর প্রশ্ন উঠতে পারে)। গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বৈধ বিক্রয় থাকলে প্রিয়েমশন মামলা করা যায়। জাল বা অবৈধ দলিল হলে প্রথমে সেই দলিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে হয়; সাধারণত প্রিয়েমশন উপযুক্ত প্রতিকার নয়। দানপত্রের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রিয়েমশন চলে না। তবে যদি আদালত প্রমাণ পান যে তথাকথিত "দান" আসলে বিক্রয়কে আড়াল করার কৌশল (colourable transaction), তাহলে মামলার প্রকৃত স্বরূপ বিবেচনা করা হতে পারে।
← Back to All Articles
Click to Chat